ট্যাবলেট: হাতের মুঠোয় কম্পিউটার

গাড়ি বা বাসে করে অফিসে যাচ্ছেন হঠাৎ মনে পড়ল একটা জরুরি ই–মেল করতে হবে বা পাওয়ার পয়েন্টে তৈরি করা            স্লাইডে কিছু পরিবর্তন করা প্রয়োজন, পকেট থেকে বেরিয়ে এলো একটি ট্যাবলেট কম্পিউটার৷ সাথে সাথে সম্পূর্ণ হয়ে গেল আপনার কাজ৷ আপনি ফেললেন স্বস্তির নিঃশ্বাস৷বেড়াতে বা কাজে দূরে কোথাও যাচ্ছেন, হাতে অনেকটা সময়, দেখে ফেলতে পারেন নিজের পছন্দের কোন প্রিয় সিনেমা বা পড়তে পারেন কোন পছন্দের ই–হক৷

কি এই ট্যাবলেট কম্পিউটার?

ট্যাবলেট একটি সহজ বহনযোগ্য ছোট কম্পিউটার যন্ত্র যার প্রধান ইনপুট হল টাচ্‌ স্ক্রীন৷ টাচ্‌ স্ক্রীন ছাড়াও ট্যাবলেটে থাকে ক্যামেরা, মাইক্রোফোন, সেন্সর ইত্যাদি৷ সাধারণ কম্পিউটার এর মতো মাউস বা কী–বোর্ড এতে থাকে না৷ হাতের আঙ্গুল দিয়ে স্পর্শ করে টাচ স্ক্রীনে মাউসের কাজ এবং ট্যাবলেটের স্ক্রীনে ভেসে ওঠা ভারচুয়াল কী–বোর্ড ব্যবহার করে অক্ষর বা সংখ্যা লিখতে পারা যায়৷ কিছু হার্ডওয়্যার কন্ট্রোল বোতাম বা সুইচ্‌ থাকে শব্দের মাত্রা বাড়ানো ও কমানোর জন্য এবং ট্যাবলেট চালানো ও বন্ধ করার জন্য৷ এছাড়া কিছু লোটি থাকে নেটওয়ার্ক কানেকশন, ব্যাটারি চার্জ এবং কোন ইউ.এস.বি ডিভাইস ব্যবহার করার জন্য৷ ট্যাবলেট সাধারনত ৭ ইঞ্চি বা তার চেয়ে বড় হয় (কোনাকুনি ভাবে)৷ ট্যাবলেট বিভিন্ন রকম অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করা হলেও, বেশিরভাগ সময়ে উইনডো ৮ এবং অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করা হয়৷

ট্যাবলেটের ইতিকথা ঃ

অতীতের বিভিন্ন প্রযুক্তি এবং ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে তৈরি হয়েছে আজকের ট্যাবলেট কম্পিউটার৷ ডিজিটাইজার বা গ্রাফিক্স ট্যাবলেট যার রয়েছে হাতের লেখা বোঝার ক্ষমতা, তৈরি হয়েছিল সেই ১৯৫৬ সালে৷ এটি কী–বোর্ডকে প্রতিস্থাপন করতে পেরেছিল সফল ভাবে৷ ট্যাবলেটের পূর্বসুরী হিসেবে পারসোনাল ডিজিটাল অ্যাসিস্টেন্ট (পি.ডি. ডিভাইসকে পণ্য করা হয়, যাতে কোন নোট নেওয়া বা ডাটা সংগ্রহ করা যায়৷ প্রথম পি.ডি.এ মডেল বাজারে আসে ১৯৮০ সালে৷ এরপর অ্যাপেল সংস্থা এবং ইউ.এস. রোবোটিক্স সংস্থা এই ভাবনা নিয়ে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করে৷

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হল ২০০১ সালে যখন মাইক্রোসফট একটি বিশেষ অপারেটিং সিস্টেম -উইন্ডোস এক্স.পি. ট্যাবলেট পি.সি. এডিসন বানায়৷ ট্যাবলেট পি.সি. এই নামটাও মাইক্রোসফট–এর দেওয়া৷ এরপর থেকেই বিভিন্ন সংস্থা এগিয়ে আসে ট্যাবলেট কম্পিউটার বানানোর জন্য৷ তবে- বড় সাফল্য আসে অ্যাপেলের হাত ধরেই ২০১০ সালে যখন বাজারে আইপ্যাড আসে৷ তারপর থেকে ক্রমাগত এর চাহিদা প্রতিবছরই বাড়ছে৷ সমীক্ষা থেকে ভবিষ্যৎবাণী করা যায়, ২০১৫ সালে ২ কোটিরও বেশি এই ট্যাবলেট কম্পিউটার বিক্রি হবে৷

কত ধরনের হয় এই ট্যাবলেট কম্পিউটার

বিভিন্ন ধরনের ট্যাবলেট কম্পিউটার পাওয়া যায় বাজারে৷ নিচে কিছু উল্লেখ করা হল ঃ

 প্রেট ট্যাবলেট

পি.সি. ঃ এটি একটি সনাতন ট্যাবলেট কম্পিউটার এবং বিশেষ ধরনের প্যাড যাতে একটি টাচ্‌ স্ক্রীন থাকে কিন্তু কোন কী–বোর্ড থাকে না৷

 কনভারটিবল

ট্যাবলেট পি.সি. ঃ সাধারণ এটি একটি টাচ্‌স্ক্রীন সহ নোটবুক৷ এতে একটি বেস এবং একটি স্ক্রীন থাকে যা ১৮০০ পর্যন্ত ঘোরানো যায়৷

 হাইব্রিড ট্যাবলেট

পি.সি.ঃ এটি কনভারটেবল ট্যাবলেট এবং এর সঙ্গে থাকে খুলে আলাদা করা যায় এমন কী–বোর্ড৷

  বুকলেটস ঃ এটিতে দুটি স্ক্রীন থাকে যা বইয়ের মতো ভাঁজ করা যায়৷

রাগড ট্যাবলেট

পি.সি. ঃ এই ট্যাবলেট পি.সি. এমনভাবে বানানো যা প্রতিকুল পরিবেশেও ঠিক মতো কাজ করে৷

ট্যাবলেট কম্পিউটারের বৈশিষ্ট্য ঃ

হার্ডওয়্যার ঃ

হাই ডেফিনেশন এবং অ্যান্টি প্রেয়ার স্কীন

ওয়্যারলেস ইন্টারনেট সংযোগ

জি.পি.এস স্যাটেলাইট লোকেশান

ছবি এবং ভিডিও তোলার জন্য ক্যামেরা

গল্প ওজন এবং দীর্ঘ ব্যাটারি জীবন

অন্যান্য লোকাল ডিভাইসের সাথে সংযোগ করার জন্য ব্লু–টুথ

সফটওয়্যার ঃ

মোবাইল ওয়েব ব্রাউসার

ডিজিটাল বই পড়ার জন্য রিডার

ডাউনলোডেবল অ্যাপ্রিকেশন যেমন গেম‚ পড়াশুনা এবং অন্যান্য

ছোট মিডিয়া প্রেয়ার যাতে ভিডিও চালানো যায়

ই–মেল এবং সামাজিক মিডিয়া

মোবাইল ফোন–এর কাজ যেমন মেসেজিং,স্পীকার ফোন- অ্যাড্রেস বুক

ভিডিও টেলিকনফারেন্সিং

ডাটা স্টোরেজ ঃ

অন বোর্ড ফ্ল্যাশ মেমোরিরিমুভেবল স্টোরেজের জন্য পোর্টস ট্যাবলেট ব্যবহারের সুবিধা এবং অসুবিধাঃ

ট্যাবলেট পি.সি.–এর প্রধান সুবিধা তার মাপ এবং ওজন৷ এর সহজ বহনযোগ্যতা একে এত জনপ্রিয় করে তুলেছে৷ এটি বসে বসে, চলতে চলতে এমনকি বিছানায় শুয়েও ব্যবহার করা যায়৷ বইয়ের মতো আকার হওয়ার কারণে, ই–রিডার ব্যবহার করে অনেকে এখন পড়ার জন্য ট্যাবলেট পি.সি.–কেই বেছে নিচ্ছে৷ তবে কিছু অসুবিধাও আছে ট্যাবলেট পি.সি. ব্যবহারের৷ ট্যাবলেট পি.সি.–কে বহন করা হয় এবং বিভিন্ন পরিবেশে, বিভিন্ন অবস্থায় ব্যবহার করা হয় তাই এর স্ক্রীন তাড়াতাড়ি খারাপ হয়ে যায়৷ পারসোনাল কম্পিউটারের থেকে এর ক্ষমতা অনেক সীমিত৷ যেহেতু সত্যিকারের কী–বোর্ড থাকে না। তাই টাইপ করার সময় কিছু অসুবিধা হয় অনেক সময়৷

কয়েকটি সেরা ট্যাবলেট এবং তাদের সম্ভাব্য দামঃ

অ্যাপেল আইপ্যাড মিনি রেটিনা — ২৮,৮৮৮/– (টাকা)

গুগল নেক্সাস ৭ (সেকেন্ড জেনারেশন) — ২১,৯৯৯/– (টাকা)

সোনি এক্সপেরিয়া ট্যাবলেট জেড — ৩২,৯৯০/– (টাকা)

     স্যামসাঙ গালাক্সি ট্যাব ৪ — ২৬,৯০০/– (টাকা)

এসার আই কোনিয়া ডাব্লু ৪-৮২১ — ২৯,৯৯০/– (টাকা)

নোকিয়া লুমিয়া ২৫২০ — ২৭,৯৪৯/– (টাকা)

কয়েকটি উপযোগী ট্যাবলেট (দাম ১০,০০০/– টাকার মধ্যে)

স্যামসাঙ গালাক্সি ট্যাব ২ পি ৩১১ — ৯৪৯৯/– (টাকা)

কার্বন স্মার্ট ট্যাব ১ — ৬৮০০/– (টাকা)

স্পাইস স্টীলার প্যাড — ৮,৪৯৯/– (টাকা)

এসার আই কোনিয়া বি১-এ৭১ — ৬,৫০০/– (টাকা)

আসুস মেমো প্যাড ৭ — ১০,৩০৩/– (টাকা)

লেনোভো আইডিয়া ট্যাব — ৬,৯৯৪/– (টাকা)

এইচ.সি.এল মি  ট্যাব ভি-১ ট্যাবলেট — ৬৭৭৫/– (টাকা)

২০১০ সালে আইপ্যাড বাজারে আসার পর থেকেই ট্যাবের জনপ্রিয়তা ভীষণ দ্রুত গতিতে বেড়েছে৷ মোবাইল ফোন আর ল্যাপটপের মাঝে এরা দারুণ ভাবে জায়গা করে নিয়েছে৷ ট্যাবলেটের দাম ক্রমশ কমছে এবং নতুন নতুন অ্যাপ্লিকেশন যোগ হচ্ছে ফলে বিশেষজ্ঞদের মতে ট্যাবলেটের ভবিষ্যৎ খুবই উজ্জ্বল৷