মেমরিস্টর:দ্য মিসিং লিংক

প্রায় দুশো বছর ধরে আমরা ইলেকট্রনিক্স জগতে তিন ধরনের মৌলিক সার্কিট এলিমেন্ট সম্বন্ধে জেনে এসেছি-রেজিস্টার, ক্যাপাসিটার ও ইন্‌ডাক্টর৷ ১৯৭১ সালে গবেষক লিওন চুয়া (ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়) চৌম্বকীয় ক্ষেত্র ও চার্জের এর সম্পর্কের ভিত্তিতে এক অভিনব সম্ভাবনার অনুসন্ধান দেন—যার পোশাকি নাম মেমরিস্টার ৷ এটি হল ইলেকট্রনিক্স পরিবারের সর্বকনিষ্ঠ সংযোজন, যাকে চতুর্থ মৌলিক সার্কিট–এ রিমোট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে৷ মেমোরি ও রেসিস্টার এই দুই শব্দ যোগে মেমরিস্টার এর উৎপত্তি৷ বলাবাহুল্য -এটি এমন একটি রেজিস্টার যার নিজস্ব একটি মেমোরি রয়েছে৷ মেমোরি থাকার কারণে বিদ্যুৎ চলে গেলেও এই যন্ত্রটি নিজের পূর্বতন অবস্থার কথা স্মৃতিতে ধরে রাখতে পারে৷ পূর্বের তিনটি সার্কিট এলিমেন্ট মূলত চারটি তড়িৎ চুম্বকীয় পরিমাপ যথা চার্জ,কারেন্ট‚ ভোল্টেজ ও চুম্বকীয় ফ্লাক্স–এর উপর নির্ভরশীল৷ যেমন— রেজিস্টর (ভোল্টেজ ও  কারেন্ট),  ক্যাপাসিটার (চার্জ ও ভোল্টেজ ), ইন্‌ডাক্টর (ফ্লাক্স ও কারেন্ট ) সম্পর্ক এইরূপ৷ অর্থাৎ, অবলুপ্ত যোগসূত্রটি ছিল চার্জ ও ফ্লাক্স–এর মধ্যে, যা গবেষক লিওন চুয়া ১৯৭১ সালে অনুসন্ধান করেন এবং এটিকে দ্য মিসিং লিঙ্ক হিসেবে অভিহিত করেন এবং পরবর্তীকালে এর নাম দেন মেমরিস্টার৷

প্রতিটি মেমরিস্টর ২ স্তরবিশিষ্ট টাইটেনিয়াম ডাই–অক্সাইড দিয়ে তৈরি যাদের প্রতিটি স্তরের রোধ আলাদা৷ দুটি স্তর ইলেকট্রড দিয়ে যুক্ত৷ এর ভেতর দিয়ে যখন বিদ্যুৎ প্রবাহ চলে তখন দুই স্তরের মাঝের প্রাচীর সরে গিয়ে মেমরিস্টর–এর মোট রোধ পরিবর্তন হয়৷ তড়িৎপ্রবাহ বন্ধ হয়ে গেলে এই পরিবর্তনকেই তথ্য হিসেবে সংরক্ষিত করা হয়৷ এবং পুনরায় তড়িৎপ্রবাহ চালু করা হলে, এই তথ্য অপরিবর্তিত অবস্থার ফিরে পাওয়া যায়৷

উপযুক্ত একটি মেমরিস্টার একই সঙ্গে অনেকগুলি ট্রান্‌জিস্টার–এর কাজ করতে পারে৷ বহুল সম্ভাবনাময় এই যন্ত্রটি প্রায় একশগুণ দ্রুত আজকের যেকোন ফ্ল্যাশ্‌ মেমোরি (যেমন পেন ড্রাইভ)–র থেকে, একই সঙ্গে প্রায় এদের ১ শতাংশেরও কম এনার্জি ব্যয় করে৷ তাই আগামী দিনের কম্পিউটারে খুব শীঘ্রই ট্রান্‌জিস্টার–এর জায়গা দখল করবে মেমরিস্টার৷