ওয়্যারলেস কমিউনিকেশন সিস্টেম

এইবার যে বিষয়টি নিয়ে লিখতে বসলাম তার মূল বক্তব্যটি হল মানব দেহের মাধ্যমে চৌম্বকিয় সঙ্কেতকে  হব্যবহার করে কিভাবে বেতার যোগাযোগ বা ওয়্যারলেস কমিউনিকেশন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। গবেষকদের মতে, এই প্রযুক্তি (যা মানব পরিধানযোগ্য বৈদ্যুতিন যন্ত্রের মধ্যে তথ্য সংযোগ ঘটায়), ব্যবহার করে ন্যুনতম বৈদ্যুতিক ক্ষমতা প্রয়োগে এবং অনেকবেশি নিরাপদে একটি ওয়্যারলেস কমিউনিকেশন সিস্টেম তৈরি করা সম্ভব যা আনুমানিকভাবে ভবিষ্যতে বর্তমান ওয়্যারলেস কমিউনিকেশন সিস্টেমের একটি বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে চিহ্নিত হবে।

ইউনিভারসিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, স্যান দিয়্যাগো-এর এক অধ্যাপক প্যাট্রিক মারসিয়ার যিনি এই গবেষণার প্রধান বলেছেন, ভবিষ্যতে মানবসমাজ স্মার্ট ওয়াচ, ফিটনেস ট্র্যকার এবং স্বাস্থ পর্যবেক্ষন যন্ত্র-এর মত বৈদুতিন যন্ত্র পরিধান করবে যা নিজেদের মধ্যে তথ্য আদানপ্রদান করবে। বর্তমানে ব্লু-টুথ প্রযুক্তির মাধ্যমে এই  তথ্য আদানপ্রদান করা হয় যার বৈদ্যুতিক খরচ অপেক্ষাকৃত বেশি। ব্লু-টুথ যে ধরনের অসুবিধার সম্মুক্ষিন হয়েছ এই নতুন গবেষণাটি তার একটি সমাধানও বটে। ব্লু-টুথ তড়িৎ-চুম্বকীয় বিকিরণের মাধ্যমে তথ্য আদান প্রদান করে যা কিনা মানবদেহ সহজভেদ্য নয়। সেটি তখনিই সম্ভব যদি তড়িৎ-চুম্বকীয় বিকিরণের ক্ষমতা বাড়ানো যা কিনা অপেক্ষাকৃত খরচবহুল।  কিন্ত এই নতুন গবেষনাটিতে যে চুম্বকীয় ক্ষেত্রের ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে যা মানবদেহভেদ্য তার জন্য তড়িৎব্যায় এবং সিগন্যাল লস্‌ ন্যুনতম। গবেষকরা দেখিয়েছেন যে এই প্রযুক্তিতে সিগন্যাল পাথ লস্‌ ব্লু-টুথ প্রযুক্তির তুলনায় ১০০ লক্ষগুন কম।

অধ্যাপক মার্সিয়ারের অধীনে গবেষণারত এক ছাত্র যিয়ুং পার্ক বলেছেন যে বর্তমান পরিধানযোগ্য বৈদ্যুতিন যন্ত্রগুলির তড়িৎকোষ খুবই স্বল্প জীবনকাল সম্পন্ন। কিন্তু এই নতুন প্রযুক্তির ক্ষেত্রে যেহেতু চুম্বকীয় ক্ষেত্র ব্যাবহার করা হয় সুতরাং বিদ্যুতখরচ ন্যুনতম। এই প্রযুক্তি ব্যাবহারে কোনোরকম শারিরিক ঝুঁকি নেই। এর সংকেত প্রেরণ ক্ষমতা(ট্রান্সমিশন) পাওয়ার অন্যান্য যন্ত্র যেমন এম আর আই-এর তুলনায় অনেক কম। এই প্রযুক্তির আরেকটি বড় সুবিধা হল নিরাপত্তা যা এই প্রাযুক্তিটিকে ব্লুটুথ প্রযুক্তি থেকে আরেকধাপ এগিয়ে দিয়েছে। ব্লুটুথ বায়ুমন্ডলকে মাধ্যম হিসেবে ব্যাবহার করে যোগাযোগ স্থাপন করে এবং এই কারণে ৩০ ফুট দূরত্বের মধ্যে অন্য আরেকটি ব্লুটুথ ডিভাইস এই যোগাযোগকে আড়ি পেতে শুনতে পারে যাকে ইংরেজিতে যাকে ইভ্‌সড্রপিং বলা হয়। যেহেতু এই নতুন প্রযুক্তি মানবদেহের মাধ্যমে যোগাযোগ স্থাপন করে, এক্ষেত্রে যোগেযোগের তথ্য এক মানবদেহ থেকে অন্য মানবদেহে সঞ্চারিত হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। সুতরাং বোঝাগেল যে ইভ্‌সড্রপিং এই নতুন প্রযুক্তির ক্ষেত্রে সম্ভব নয়।

এইবার আমরা সংক্ষপে এই প্রযুক্তির কার্যসুত্র সম্বন্ধে জানব। গবেষকরা এই নতুন প্রযুক্তির একটি প্রোটোটাইপ তৈরি করেন যা, পি ভি সি নল দ্বারা অন্তর্হিত তামার তার দ্বারা তৈরি। এই তারের এক প্রান্ত একটি বহিঃস্থিত সংশ্লেষকের সঙ্গে যুক্ত থাকে এবং অন্য প্রান্তটি মানবশরীরের তিনটি অঙ্গ- মস্তক, বাহু এবং পা-এর সঙ্গে কয়েল-আকারে যুক্ত থাকে। এই অন্তর্হিত তামার তারের কয়েল চুম্বকক্ষেত্রের উৎস হিসেবে কাজ করে এবং মানবশরীরের একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্তে চুম্বকীয় সঙ্কেত প্রেরন করতে সক্ষম হয়। এইভাবে গবেষকরা ন্যুনতম সঙ্কেতের ক্ষমতা ক্ষয়ে মানবশরীরের একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্তে চুম্বকীয় সঙ্কেত প্রেরন করতে সক্ষম হয়েছেন।

 

যদিও এই প্রযুক্তিটি এখনো একটি পরীক্ষালব্ধ ফল এবং গবেষণাগার-ই এর পরিধি, গবেষকরা নিশ্চিত এই প্রযুক্তিটি ভবিষ্যতে ফলপ্রসু প্রমানিত হবে এবং এটি সম্পূর্ন মানবদেহের স্বাস্থ পর্যবেক্ষনের জন্য বহুলক্ষেত্রে প্রযোয্য হবে।